দিত্বীয় অধ্যায়: কম্পিউটার ও কম্পিউটার ব্যবহারকারীর নিরাপত্তা
তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি
শ্রেণি: নবম-দশম
অধ্যায় ২: কম্পিউটার ও কম্পিউটার ব্যবহারকারীর নিরাপত্তা
কম্পিউটার রক্ষণাবেক্ষণে সফটওয়্যারের গুরুত্ব
কম্পিউটারকে সচল ও গতিশীল রাখার জন্য সফটওয়্যার রক্ষণাবেক্ষণ অত্যন্ত জরুরি। দৈনন্দিন ব্যবহারে কম্পিউটারে বিভিন্ন টেম্পোরারি (Temporary) ফাইল তৈরি হয়, যা কম্পিউটারকে ধীরগতি সম্পন্ন করে দেয়।
রক্ষণাবেক্ষণের উপায়সমূহ:
- নিয়মিত টেম্পোরারি ফাইল মুছে ফেলা (Temp, %temp%, Prefetch)।
- রেজিস্ট্রি ক্লিনআপ (Registry Cleanup) সফটওয়্যার ব্যবহার করে কম্পিউটারের এরর ঠিক করা।
- হার্ডডিস্কের জায়গা খালি ও সুবিন্যস্ত করতে ডিস্ক ডিফ্র্যাগমেন্টার (Disk Defragmenter) ব্যবহার করা।
- অপারেটিং সিস্টেম নিয়মিত আপডেট রাখা।
কম্পিউটার ভাইরাস ও অ্যান্টিভাইরাস
VIRUS এর পূর্ণরূপ হলো- Vital Information Resources Under Siege (গুরুত্বপূর্ণ তথ্যসমূহ বাজেয়াপ্ত করা)। ১৯৮০ সালে ইউনিভার্সিটি অব নিউ হ্যাভেনের অধ্যাপক ফ্রেড কোহেন (Fred Cohen) এর নামকরণ করেন।
নিরাপত্তার উপায়:
- কম্পিউটারে নির্ভরযোগ্য অ্যান্টিভাইরাস (Antivirus) ব্যবহার করা (যেমন: ক্যাসপারস্কি, অ্যাভাস্ট, নরটন)।
- পেনড্রাইভ বা মেমোরি কার্ড স্ক্যান না করে ব্যবহার না করা।
- অপরিচিত লিংকে বা ই-মেইলে আসা অ্যাটাচমেন্ট ক্লিক না করা।
পাসওয়ার্ড এবং হ্যাকিং
ইন্টারনেটে আমাদের ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে শক্তিশালী পাসওয়ার্ড ব্যবহার করা অপরিহার্য।
- শক্তিশালী পাসওয়ার্ড: বর্ণ (ছোট ও বড় হাতের), সংখ্যা এবং বিশেষ চিহ্ন (যেমন- @, #, $, %) মিলিয়ে পাসওয়ার্ড তৈরি করতে হয়।
- টু-স্টেপ ভেরিফিকেশন (Two-step verification): শুধু পাসওয়ার্ডের উপর নির্ভর না করে মোবাইল নম্বরে আসা কোড দিয়ে অ্যাকাউন্টে লগইন করার নিরাপত্তাকে টু-স্টেপ ভেরিফিকেশন বলে।
সফটওয়্যার পাইরেসি ও কপিরাইট আইন
কপিরাইট আইন (Copyright Law): একজন সৃজনশীল কর্মীর সৃষ্ট কর্ম (যেমন- বই, সফটওয়্যার, মুভি) অন্য কেউ যাতে নিজের নামে চালিয়ে দিতে বা বিনা অনুমতিতে বিক্রি করতে না পারে, তা নিশ্চিত করতে কপিরাইট আইন তৈরি করা হয়েছে।
পাইরেসি (Piracy): কপিরাইট আইনের তোয়াক্কা না করে কোনো সফটওয়্যার বা ডিজিটাল কনটেন্টের অবৈধ কপি করা ও ব্যবহার করাকে সফটওয়্যার পাইরেসি বলে।
ওপেন সোর্স সফটওয়্যার: যে সফটওয়্যারগুলো বিনামূল্যে পাওয়া যায় এবং ইচ্ছামতো পরিবর্তন ও বিতরণ করা যায়, তাদেরকে মুক্ত বা ওপেন সোর্স (Open Source) সফটওয়্যার বলে। যেমন- লিনাক্স (Linux) অপারেটিং সিস্টেম।
বহুনির্বাচনি প্রশ্ন (MCQ)
সঠিক উত্তরটিতে ক্লিক করুন। শেষে আপনার প্রাপ্ত নম্বর দেখতে পাবেন।
ধন্যবাদ!
অধ্যায় ২-এর আলোচনা এখানেই সমাপ্ত হলো।